সাতক্ষীরা জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনের বাইরে রয়েছে : ৮ হাজার প্রবাসী

বিশেষ প্রতিনিধি(মোস্তাফিজুর রহমান) : সাতক্ষীরায় বিভিন্ন উপজেলায় বিদেশ ফেরতের সংখ্যা ৮ হাজার ৮৬৮ জন। কিন্তু হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন মাত্র ১৬৯ জন। এছাড়া সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন একজন।

জেলা পুলিশের তথ্য মতে, ১ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত ৮৮৬৮ প্রবাসী বিদেশ থেকে সাতক্ষীরায় এসেছেন। এদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ এসেছেন ভারত থেকে। জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন অফিসে তাদের তালিকা পাঠানো হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ডা. জয়ন্ত জানান, করোনা ভাইরাস সংক্রমন প্রতিরোধে সাতক্ষীরায় গত ২৪ঘন্টায় নতুন করে বিদেশ ফেরত আরো ৮২জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

জেলার সাতটি উপজেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে ১৬৯ জনকে। এদের মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৩৩ জন, আশাশুনি উপজেলায় ১৬ জন, শ্যামনগর উপজেলায় ৩৩ জন, কালিগঞ্জ উপজেলায় ৩৬ জন, দেবহাটা উপজেলায় ২৫ জন, কলারোয়া উপজেলায় আটজন ও তালা উপজেলায় ১৮ জন।

এছাড়া জেলার শ্যামনগর উপজেলার দাতনিখালী গ্রামের এসএম সুলতান মাহমুদ সুজনকে সদর হাসপাতাল আইসোলেশানে নেয়া হয়েছে।

তবে, পুলিশের তথ্য অনুযায়ী গত ১৮দিনে সাতক্ষীরায় ৮হাজার ৮৬৮ জন বিদেশ ফেরত লোক এসেছেন। এদর বেশীরভাগই ভারতীয় নাগরিক। তাদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।

ইতিমধ্যে হোম কোয়ারেন্টিনে না থেকে ঘুরাঘুরি করার জন্য সাতক্ষীরার কামালনগরের মালদ্বীপ ফেরত কামরুজ্জামানকে ১০হাজার টাকা, শ্যামনগরের গোপালপুরের কুয়েত ফেরত রঞ্জু ইসলামকে ৫ হাজার টাকা ও সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের হাজিপুর গ্রামের ইটালী ফেরত মাহিদুর রহমানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। তাদেরকে বাধ্যতামুলক ১৪দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।

পুুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সাতক্ষীরায় ১লা মার্চ হতে ১৮মার্চ পর্যন্ত মোট ৮ হাজার ৮৬৮ জন লোক বিদেশ থেকে সাতক্ষীরায় এসেছেন।এদের প্রায় ৮০% এসেছেন ভারত থেকে।

জেলা পুলিশ ওই তালিকা অনুযায়ী সার্বিক খোঁজ নিচ্ছেন। বিদেশ ফেরত সবাইকে মনিটর করার সর্বোচ্চ চেস্টা করা হচ্ছে। বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামাল বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের আকাশলীনা, দেবহাটার রূপসী ম্যানগ্রোভসহ সাতক্ষীরা জেলার সকল পর্যটন এলাকা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জনসাধারণকে পর্যটন এলাকায় না যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। একই সাথে জেলায় সকল ধরনের সভা সমাবেশ, সেমিনার, সামাজিক অনুষ্ঠানসহ সকল প্রকার গণজমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতামুলক লিফলেট বিতরন ও জরুরি সভাসহ নানা কর্মসুচি হাতে নেয়া হয়েছে।

পোষ্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *