প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে সাতক্ষীরায় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি: দল বিভক্তকারীদের শিক্ষা দিতে তৃণমূলই যথেষ্ঠ: জেলা আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক

নিজস্ব প্রতিনিধি: পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি আহবানের কারণে সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কোন পক্ষই দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনের অনুষ্ঠান করতে পারেনি।

সোমবার বিকাল ৪টায় এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগ অনুমোদিত কমিটি গত ২৩ সেপ্টেম্বর এই কর্মসূচি আহবান করে। কিন্তু ২৫ সেপ্টেম্বর একই স্থানে পাল্টা কর্মসূচি দেয় অনুমোদিত কমিটির ৩নং সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম। তিনি নিজেকে উর্দ্ধতন সহ-সভাপতি হিসেবে দাবী করে এই পাল্টা সভা আহবান করেন।

এদিকে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে জেলা আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠান মাত্র ১ঘন্টা পূর্বে শহরে মাইক প্রচারের মাধ্যমে স্থগিত করা হয়।

অপরদিকে বিকালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে শহরের তুফান কনভেনশন সেন্টারে জেলা আওয়ামী লীগ অনুমোদিত কমিটির আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অপরদিকে একই সময়ে শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে মো. শহিদুল ইসলামের পক্ষে পাল্টা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জেলা আওয়ামী লীগ অনুমোদিত কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. আব্দুর রশিদ। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আপনাদের (তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ) যত বার ডেকেছি ততবার আপনারা আমাদের ডাকে হাজির হয়েছেন। সকল সময়ে সকল আন্দোলন সংগ্রামে আপনাদের কাছে পেয়েছি। আপনাদের ত্যাগের কারণে আমরা আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছি। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কারণে আমরা আজ বড় বড় চেয়ারে বসছি। এই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে যারা চলে তারা বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না, তাদের পিছু হটা লাগে। এখন দল তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে যাচ্ছে। তাদের ডাক দিলে তারা চলে আসেন। তারা আমাদের কাছে কিছু চাননা। বরং আমরা তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু নিয়ে থাকি কিন্তু তাদের কিছুই দেই না। আপনাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব আছে।

ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ টেনে নজরুল ইসলাম বলেন, ২০০৪ সাল থেকে আপনাদের সহযোগিতায় এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। জানি না কতদিন সেটা সুরক্ষা করতে পারবো। আমার রাজনীতিতে কোন হাতিয়ার নেই। আমার রাজনীতিতে আমি কখনও এমন কোন অবস্থান নেইনা। সেজন্য আমি সব সময় আপনাদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছি। যতবার নির্বাচন করেছি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে পেয়েছি অফূরন্ত ভালোবাসা। নির্বাচনে হারলেও সেটা আনন্দের সাথে হেরেছি। কারণ তৃণমূল আমার সাথে ছিলো। আমাদের মধ্যে একতা ছিলো। তৃণমূল নেতারা সব সব সময় দলের জন্য ছুটে চলেছে। তারা দলের কাছে কিছু চাই না।

তিনি আরও বলেন, অনেকে দলকে দ্বিধা-বিভক্ত করার চেষ্টা করছে তাদের শিক্ষা দেবে তৃণমুল। দলকে বিভক্তকারীদের শিক্ষা দিতে তৃণমূলই যথেষ্ট।’

তিনি বলেন, ‘আজ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন। বর্তমান সময়ে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন সেটি বিশ্বে দৃষ্টান্ত। উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রাখতে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ব আজ করোনার প্রকোপে দিশাহারা। এ মহামারি মোকাবিলা করতে শেখ হাসিনার সরকার নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মহাকালের মহানায়ক স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলা বিনিমার্ণের যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন তার সুযোগ্য কন্যা দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণমানুষের মুখে হাসি ফুটানো এক সফল রাষ্ট্রনায়ক।’

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, সাবেক দপ্তর সম্পাদক শেখ হারুন উর রশিদ, ডা. মুনসুর রহমান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এসএম শওকত হোসেন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদিকা লায়লা পারভীন সেঁজুতি, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাছিম, যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজান, বৈকারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান অসলে, ফিংড়ি ইউনিন পরিষদ চেয়ারম্যান শামসুর রহমান প্রমুখ। আলোচনা সভা ও কেককাটার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী।

এদিকে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মো. শহিদুল ইসলাম। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা ২ আসনের সংসদ সদস্য। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফিরোজ কামাল শুভ্র, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান বাবু, জেলা মহিলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর জ্যোৎস্না আরা, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম মোরশেদ, সরদার নজরুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গণেশ চন্দ্র মন্ডল, শিবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শওকত আলী প্রমুখ।

পোষ্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *